চোটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপ মিস করে স্পেনের শিরোপাজয়ী দলের অংশ হতে পারেননি বার্সেলোনা মিডফিল্ডার ফেরমিন লোপেস। তবে ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে তাঁর কোনো অনুতাপ নেই।

মে মাসের মাঝামাঝি পাওয়া গুরুতর চোট থেকে এখনো সেরে উঠছেন ফেরমিন। লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর ডান পায়ের পঞ্চম মেটাটারসাল হাড় ভেঙে যায় এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। এই চোটেই তাঁর বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। বর্তমানে তিনি সান জোয়ান দেসপির ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুশীলন করছেন এবং মে মাসে পাওয়া পায়ের চোট সারাতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। মাঠে ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে, তবে প্রত্যাবর্তনের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
শুরুতে ফেরমিন প্রচণ্ড ধাক্কা পেয়েছিলেন, কারণ তাঁর বিশ্বকাপে খেলার প্রত্যাশা ছিল। কয়েক দিন হতাশা, আক্ষেপ ও দুঃখে কাটানোর পর তিনি নিজেকে সামলে নেন এবং অস্ত্রোপচারের পরই সক্রিয় পুনর্বাসন শুরু করেন। এক দিনও ঢিলেমি না করে তাঁর লক্ষ্য গত মৌসুমে ডান পায়ের আঙুলের হাড় ভাঙার আগে দেখানো দুর্দান্ত অবস্থায় ফেরা। ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৮ ম্যাচে ১৩ গোল ও ১৭টি অ্যাসিস্ট করেন। বার্সার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শুরুর একাদশে জায়গা পেতে তিনি যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছেন, পুনর্বাসনেও সেটিই ফুটে উঠছে।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন দলে জায়গা না পাওয়া ফেরমিনের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তবে চোটের কারণে যে ফাইনালে খেলতে পারেননি, সেটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেখার জন্য স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের আমন্ত্রণ তিনি দ্বিধাহীনভাবে গ্রহণ করেন। জাতীয় দলের সতীর্থদের, বিশেষ করে বার্সেলোনার সতীর্থদের সঙ্গে তিনি ম্যাচ উপভোগ করেন। তাঁদের আনন্দে শামিল হন, সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং একসঙ্গে ছবিও তোলেন। স্পেন জাতীয় দলের জন্যও ফেরমিনের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে, কারণ তিনি একাধিক বাছাই ম্যাচ খেলেছেন।
‘মার্কা’ জানিয়েছে, বিশ্বকাপে খেলতে না পারায় ফেরমিনের কোনো অনুতাপ বা আক্ষেপ নেই। বার্সা ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই তাঁকে পরিশ্রম, পেশাদার নিষ্ঠা ও দলীয় মানসিকতার আদর্শ হিসেবে দেখা হয়। সবাই তাঁর মাঠে ফেরার অপেক্ষায়। বর্তমানে ফেরমিন গাম্পার স্পোর্টস সিটিতে ফিরে অনুশীলন করছেন।